https://www.emjanews.com/

18413

sylhet

প্রকাশিত

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৬

সিলেট

সিলেটে যে ভাইরাসে হাসপাতালে শত শত রোগী: একদিনেই ভর্তি দেড়শ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৬

সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তির খবর মিললেও হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি এবং এ সময়ে হাম বা সন্দেহজনক হাম রোগে কারও মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।

তবে বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ৪২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫১ জন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪২১ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন ১৪৯ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৮ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজন রোগী ভর্তি আছেন।

অন্যান্য হাসপাতালের মধ্যে নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচজন, ফেঞ্চুগঞ্জে দুইজন, জকিগঞ্জে একজন, কোম্পানীগঞ্জে তিনজন, বিয়ানীবাজারে পাঁচজন, গোলাপগঞ্জে ছয়জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। নিশ্চিত রোগীদের মধ্যে দুইজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।

এদিকে জেলা ভিত্তিক হিসাবে সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, হবিগঞ্জে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে।

নতুন করে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত না হওয়া এবং মৃত্যুহীন ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন থাকা এবং একদিনে ১৫১ জন নতুন ভর্তি হওয়ায় সামগ্রিক চাপ এখনো উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।