ছবি: সংগৃহীত
মুঠোফোনের ওপাশ থেকে শুরু হয়েছিল পরিচয়। কথার পর কথা, দিনের পর দিন যোগাযোগ; একসময় সেই কথোপকথন গড়ায় প্রেমে। ভবিষ্যৎ সংসারের স্বপ্নও দেখেছিলেন দুজন। কিন্তু সেই স্বপ্নের গল্পে হঠাৎই যেন ছন্দপতন। যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেমিক। আর বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের চিরুরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় তরুণীর বাবা মনির উদ্দীন বাদী হয়ে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিরুরপাড় গ্রামের ওমানপ্রবাসী দেলোয়ারের (২২) সঙ্গে ওই তরুণীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর নিয়মিত কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে সেই কথার ভেতরেই জন্ম নেয় ভালো লাগা, আর ভালো লাগা থেকে প্রেম। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কে দেলোয়ার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে দেশে ফিরে প্রেমিকাকে নিয়ে ঘোরাফেরাও করেন তিনি।
তরুণীর অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন দেলোয়ার অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর থেকেই দেলোয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে চার দিন আগে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন ওই তরুণী।
তরুণীর ভাষ্য, ভালোবাসার মানুষটির দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেই তিনি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এখন সেই মানুষটিই তাকে অস্বীকার করছেন।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়েছিল। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে। এখন আমাকে অস্বীকার করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছেড়ে যাব না।’
তবে একই সঙ্গে আত্মহানির হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তরুণী বলেন, তার দাবি মেনে নেওয়া না হলে তিনি সেখানেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন।
এদিকে, প্রেমিকা বাড়িতে এসে অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে দেলোয়ার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য লোকমান বলেন, ‘মেয়েটি গত চার দিন ধরে বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে অবস্থান করছে। আমরা ছেলে ও মেয়ের উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে ছেলে পলাতক থাকায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।’
সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সারওয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
