সুনামগঞ্জের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার, দফায় দফায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২
ছবি: সংগৃহীত
ভালো বেতনের চাকরির আশ্বাসে ভারতের কাশ্মীরে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবক। গত ২৮ জুলাই বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও কিছুদিন পর হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আসে ‘কারাগারে আটকে থাকার’ খবর। সঙ্গে দফায় দফায় টাকা দাবির অভিযোগ।
নিখোঁজ তিন যুবক হলেন ছাতকের সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলাউদ্দিন। তিনজনই দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
তিন যুবকের একজন সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগমের অভিযোগ, একই গ্রামের ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তিন যুবককে কাশ্মীরে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবেই গত ২৮ জুলাই তাদের ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের ভাষ্য, ভারতে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে সোহেল, আয়াছ ও আলাউদ্দিনের সঙ্গে তাদের স্বজনদের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই তিনজনের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—এমন কোনো তথ্যও পরিবারকে জানানো হয়নি।
এর মধ্যেই ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে জানানো হয়, তিন যুবক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মুক্ত করতে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও থামেনি টাকার দাবি। পরে আরও ৪০ হাজার টাকা এবং একপর্যায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু টাকা চাওয়াই নয়, দাবিকৃত অর্থ না দিলে তিন যুবককে হত্যা বা ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সোহেলের মা।
এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তিন পরিবারের সদস্যরা। সামতেরা বেগমের আশঙ্কা, তার ছেলেসহ তিন যুবককে কোথাও আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ছেলেকে উদ্ধারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চেয়েছেন। গত মাসের শেষদিকে ছাতক থানায় অভিযোগ করার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম বর্তমানে ভারতে রয়েছে। তবে তিনিও এখন ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিন যুবক আদৌ কোথায় রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং তাঁদের কাছ থেকে বা পরিবারের কাছে কেন দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পরিবারের একটাই দাবি, দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে তিন যুবককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
