শিরোনাম
ড. ইউনুসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে সিলেটে বেসামাল হাম, ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় টিকা ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চতুর্থ দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে প্রতি রাতে ‘হুজুরের কক্ষে’ যেতে বাধ্য দুই শিশু, সিলেটে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক ভারতে কয়লা খনিতে সিলেটের যুবকের মৃ/ত্যু সুনামগঞ্জের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার, দফায় দফায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সালমান শাহ হ/ত্যা: ডনের আচরণে মিলেছে ‘সংশ্লিষ্টতার আভাস’ সিকৃবির উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের প্রতিবাদ

https://www.emjanews.com/

18535

national

প্রকাশিত

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৮

জাতীয়

অসুস্থ মাকে দেখতে পারোলে মুক্তি মিলেনি, তবে মৃত মাকে দেখতে পারবেন চিন্ময়!

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৮

ছবি: সংগৃহীত

মায়ের ইচ্ছেটা ছিল খুব ছোট-শেষবারের মতো ছেলেকে একবার নিজের চোখে দেখা। অসুস্থ শরীর নিয়ে সেই অপেক্ষাতেই ছিলেন ৭১ বছর বয়সী সন্ধ্যা রাণী ধর। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। কারাগারের দেয়াল পেরিয়ে ছেলের দেখা পেলেন না তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন সন্ধ্যা রাণী ধর।

মৃত্যুর আগে এক মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হৃদরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার তাঁকে নেওয়া হয় আইসিইউতে। সেখানেই ধীরে ধীরে নিভে আসে জীবনের আলো।

অসুস্থ মায়ের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন কারাগারে থাকা ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি বা প্যারোলে ছাড়ার আবেদন করা হয়েছিল। বুধবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আবেদন করেন চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর।

কিন্তু সেই আবেদনও মায়ের কাছে ছেলেকে পৌঁছে দিতে পারেনি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ নেই। স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে-বিষয়টি পরিবারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল।

রঞ্জন কুমার ধরের কথায় ফুটে ওঠে সেই অসহায় অপেক্ষার ছবি। তিনি বলেন, তাঁর মা বেশ কয়েকবার চিন্ময়কে একবার হলেও নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। মায়ের সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই ভাইকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু সময় আর অপেক্ষা করেনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে সন্ধ্যা রাণী ধর চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। যে চোখ দুটো শেষবার ছেলেকে দেখতে চেয়েছিল, সেই চোখ বন্ধ হয়ে গেল ছেলের দেখা না পেয়েই।  হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে তার মৃত্যু হয় বলে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী জানান।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাতাজির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পুণ্ডরীক ধামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে পারোলে মুক্তি দেওয়ারি আবেদন করা হচ্ছে।’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

চিন্ময়কে আদালতে হাজিরের দিন তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

চিন্ময়ের বড় ভাইয়ের ক্ষেদোক্তি, মামলা, কারাগার, আদালত; সবকিছুর বাইরে একজন মায়ের কাছে তাঁর সন্তানই ছিল সবচেয়ে বড় সত্য। শেষ বয়সে সেই সন্তানকে একবার কাছে পাওয়ার আকুতিটুকুও পূরণ হলো না।