https://www.emjanews.com/

18822

national

প্রকাশিত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৩৪

আপডেট

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৩৮

জাতীয়

যেখানে বদলি, সেখানেই বিয়ে: সাবেক ওসিকে নিয়ে যা বললেন ষষ্ঠ স্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৩৪

রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নিজেকে তার ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নি আক্তার। তার দাবি, মাহবুব আলম যে জেলায় বদলি হন, সেখানেই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মাহবুব আলম ও এক নারীকে পুলিশ থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন আন্নি। এ ঘটনায় তিনি চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বিচার দাবি করেছেন।

নওগাঁ জেলার বাসিন্দা আন্নি আক্তার জানান, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলম তার কর্মস্থলভেদে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের অভিযোগে জড়িত।

৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ের দাবির সমালোচনা করে আন্নি বলেন, কালেমা পড়ে বিয়ের কথা বলা হলেও এর কোনো বৈধতা নেই। সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে বদলির পরও তাকে অস্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণে আন্নি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা খুলতে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনে।

দরজা খোলার পর মাহবুব আলম ওই নারীকে তার স্ত্রী পরিচয় দিলেও কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে তিনি দাবি করেন, আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। তবে আন্নি জানান, তিনি এ সংক্রান্ত কোনো কাগজ পাননি।

বর্তমানে চন্দ্রিমা থানায় পৃথক কক্ষে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে গেছেন, যা প্রশাসনিক অপরাধ। বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সূত্র- কালবেলা