শিরোনাম
বাড়ছে দুধকুমারের পানি, বাড়তে পারে সুরমা-কুশিয়ারারও সিলেটে বৃষ্টির আভাস, দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত শ্রীমঙ্গলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস উদ্ধারে পাঠানো উদ্ধারকারী ট্রেনও লাইনচ্যুত সিলামে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণ গেল যুবকের তিন বছর তালাবদ্ধ ৩৬ কোটি টাকার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি সিলেটসহ সারাদেশে প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের পদায়ন পেছালো নিজের ঘর সামলান, তারপর অন্যকে নসিহত: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী ‘হুজুর মাথা টিপার কথা বলে রুমে ডেকে প্যান্ট খুলে ফেলতেন’-নির্যাতিত শিশুর বর্ণনা কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে তাণ্ডব, ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন​ সিলেটে ভারতীয় অ/স্ত্রসহ কোটি টাকার চালান জব্দ

https://www.emjanews.com/

19261

art-literature

প্রকাশিত

০২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৯

শিল্প সাহিত্য

সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো কথাকলির ‘কিংবদন্তির কথা’

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৯

ছবি: ইমজা নিউজ

সিলেট মহানগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল মিলনায়তনে সিলেট নাট্যদল ‘কথাকলি’র ৪০তম প্রযোজনা ‘কিংবদন্তির কথা’র সফল মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপু শহীদের রচনায় এবং ফয়েজ জহিরের বলিষ্ঠ নির্দেশনায় নাটকটি দর্শকমহলে তীব্র আবেগ ও গভীর ভাবনার যোগান দিয়েছে। মঞ্চে অভিনয়শৈলী ও নাট্যকাহিনীর অনবদ্য উপস্থাপন উপস্থিতি সকলকে মুগ্ধ করেছে।

​নাটকের কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্রের চরম অবহেলার শিকার একজন প্রান্তিক মানুষ। যার কোন ভিটেমাটি নেই, পিতা-পিতামহের নামে কোনো মৌজায় জমি-জমারও অস্তিত্ব নেই। এমনকি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের স্পষ্ট অভিযোগও নেই। যে মানুষটি কেবল পাহাড়, নদী আর গাছপালার মুক্ত সান্নিধ্যে নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিল, সমাজপতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তার সেই মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়। প্রকৃতি প্রদত্ত অধিকার হারিয়ে নিঃস্ব হতে হতে একপর্যায়ে সমাজপতিদের জোচ্চুরি ও অনবরত শোষণের শিকার হয়ে সে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অধিকারবঞ্চিত সেই মানুষের শোষকের ওপর আত্মরক্ষা কিংবা প্রতিবাদের ঝাঁপিয়ে পড়াটাই শেষ পর্যন্ত তার মূল ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হয়।

​বিচারালয়ের আড়ালে তাকে শিকলবন্দি করে আটকে রাখা হয় এবং শুরু হয় ‘বশ করার’ নির্মম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক প্রক্রিয়াকরণ। শিকলবন্দি জীবনের শুরুর দিকে তার মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র তেজ ও প্রতিবাদী মনোভাব থাকলেও ধীরে ধীরে তা ক্ষুধার নিষ্ঠুর দারিদ্র্যের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। 

নাটকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষকের নির্দয় ও সুপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থার যে রূপ দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা যায়; যেকোনো তেজী ও স্বাধীনচেতা মানুষ কীভাবে একপর্যায়ে আত্মমর্যাদা হারিয়ে শোষকের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়তে বাধ্য হয়।

​নাটকের শেষাংশে সেই বন্দিকে মুক্ত করে দেওয়া হলেও, ততক্ষণে তার মানবীয় স্বকীয়তা, তেজ ও মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মুক্ত আকাশে ফিরে এলেও সে আর নিজেকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে ভাববার সক্ষমতা অবশিষ্ট রাখে না। স্বাধীনতা ও পরাধীনতার সূক্ষ্ম এই রূপক উপস্থাপন উপস্থিত দর্শকশ্রোতাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে যায়।

​মঞ্চসজ্জা, আলো ও আবহসংগীতের সুষ্ঠু প্রয়োগে নাটকটি দর্শককে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে সমর্থ হয়। 

মঞ্চায়ন শেষে উপস্থিত নাটকপ্রেমীরা জানান, ‘কিংবদন্তির কথা’ কেবল একটি বিনোদনমূলক নাটক নয়; এটি আমাদের সমাজ কাঠামোর ভেতরের নির্মম সত্য, ক্ষমতা আর শোষণের নগ্ন রূপকে চমৎকারভাবে উন্মোচন করেছে।