https://www.emjanews.com/

11208

sports

প্রকাশিত

০৭ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৪

খেলাধুলা

সুনামগঞ্জে হাফ ম্যারাথন: ২১ কিলোমিটার দৌড়ে সেরা ৫৫ বছর বয়সী

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৪

ছবি: সংগৃহিত

‘আমি নিয়মিত দৌড়াই, এ জন্যই সুস্থ আছি। দৌড়ালে ওষুধ খেতে হয় না। শরীর-মন সুস্থ রাখার জন্য এটিই প্রাকৃতিক ওষুধ’- বলছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জমির হোসেন।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হাফ ম্যারাথনে ২১ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে তিনি ৪৫–ঊর্ধ্ব গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

‘সুরমা রানার্স সুনামগঞ্জ’-এর উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৩৫০ জন রানার। তাঁদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধও ছিলেন।

সকাল ছয়টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। দুই ক্যাটাগরিতে দৌড় হয়- ১০ কিলোমিটার ও ২১ কিলোমিটার- যার রুট ছিল সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। মোড়ে মোড়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা দৌড়বিদদের জন্য পানি, স্যালাইন ও হালকা খাবার সরবরাহ করেন। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যসেবা দলও প্রস্তুত ছিল।

দৌড় শেষে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জমির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর দৌড়াই, এটি বহুদিনের অভ্যাস। আমি কোনো ওষুধ খাই না- এই দৌড়ই আমার ওষুধ।’

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্বজিৎ রায় জানান, তিনি ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত দৌড়ান এবং দেশে–বিদেশে একাধিক ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকতে হলে দৌড়াতে হবে, দৌড়ানোই শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম।’

সুনামগঞ্জের ব্যাংক কর্মকর্তা মারুফ আহমদ মান্না তাঁর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে রাইয়ানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘নিজের শহরে এমন একটি চমৎকার আয়োজন হওয়ায় অংশ নিয়েছি, সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ঢাকা থেকে আসা ৭৪ বছর বয়সী খবির উদ্দিন খান ছিলেন ম্যারাথনের মূল আকর্ষণ। দেশে ও বিদেশে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই প্রবীণ রানার বলেন, ‘পরিমিত খান, নিয়মিত দৌড়ান- দেখবেন সুস্থ থাকবেন। আমি নিজে ভালো থাকতে চাই, অন্যদেরও সেই অনুপ্রেরণা দিতে ম্যারাথনে অংশ নিই।’

‘সুরমা রানার্স সুনামগঞ্জ’-এর প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জে এটি দ্বিতীয় হাফ ম্যারাথন। তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং তাঁদের মাদকমুক্ত রাখতে এই আয়োজন করেছি।’

সকাল আটটায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল।

বিজয়ীদের নাম:

১০ কিলোমিটার (পুরুষ): ১ম দীপ তালুকদার, ২য় হৃদয় পার্থ, ৩য় জনি আহমেদ

১০ কিলোমিটার (নারী): ১ম তাবাসসুম ফেরদৌস, ২য় সানজানা তাবাসসুম, ৩য় কামনা রানী সরকার

৪৫–ঊর্ধ্ব, ১০ কিলোমিটার: ১ম বিশ্বজিৎ দাস, ২য় আকরামুল ইসলাম, ৩য় শামীম খান

২১ কিলোমিটার (পুরুষ): ১ম গোলাম রাহাত তোফায়েল, ২য় মহিবুর রহমান, ৩য় তোফায়েল আহমেদ রনি

৪৫–ঊর্ধ্ব, ২১ কিলোমিটার: ১ম জমির হোসেন, ২য় গৌরব পদ রায়, ৩য় আনোয়ার হোসেন

বিজয়ীদের হাতে অর্থ, সনদ, মেডেল, ক্রেস্টসহ নানা উপহার তুলে দেওয়া হয়।