ইরানে শোকের ছায়া: বিদায় নিলেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৪
ছবি: সংগৃহিত।
ইরানের ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্বর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা প্রাণ হারালেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পর্দায় যখন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে উপস্থাপক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করছিলেন, তখন কেবল একটি জাতির নেতা নয়, বরং কয়েক প্রজন্মের এক অবিচল অভিভাবকের বিদায়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
একটি যুগের অবসান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান যে নতুন পথচলা শুরু করেছিল, তার অন্যতম প্রধান কান্ডারি ছিলেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং সামরিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসা এই নেতার প্রয়াণে পুরো দেশে নেমে এসেছে স্তব্ধতা।
শোকাতুর পারস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত ৪০ দিনের শোক কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ইরানের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গভীর ক্ষত ও বেদনারই বহিঃপ্রকাশ। কান্নায় ভেঙে পড়া উপস্থাপকের কণ্ঠস্বর আজ প্রতিটি ইরানি নাগরিকের হাহাকার হয়ে ফুটে উঠেছে। "তিনি শুধু একজন শাসক ছিলেন না, ছিলেন কমান্ডার-ইন-চীফ এবং আধ্যাত্মিক আলোকবর্তিকা। তার শূন্যতা ইরানের আকাশে এক দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার মেঘ তৈরি করেছে।"
স্মৃতির পাতায় এক আপসহীন নেতা রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র পতনের পর যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন তার অটল প্রহরী। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক হাজারো চাপের মুখেও নিজের আদর্শে অবিচল থাকা এই নেতার প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজকের এই শোকের দিনে ইরানবাসী তাদের প্রিয় নেতার আত্মার শান্তি কামনা করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মারা গেছেন খামেনির মেয়ে, জামাই ও নাতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাই ও নাতিও মারা গেছেন। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সাথে যোগসূত্র থাকা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির একজন পূত্রবধুও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মি. খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানায়। ওদিকে, বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছে। তবে, এটা পরিস্কার নয় যে ওই কর্মকর্তারা একাধিক জায়গায় নাকি একটি জায়গাতেই অবস্থান করছিলেন। তারা দাবি করেছে মি. খামেনি ছাড়াও ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলায় মারা গেছেন।
