https://www.emjanews.com/

12757

surplus

প্রকাশিত

০৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:০৩

অন্যান্য

হারানো জিনিস খুঁজতে ও অনলাইন প্রতারণা রোধে ‘অ্যাওয়ার এক্সওয়ান’

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:০৩

ছবি: আহমাদুল কবির।

আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল জীবনে জিনিস হারানো কিংবা অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া আর ব্যতিক্রম নয়- বরং তা নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারানো যেমন সাধারণ ঘটনা, তেমনি ভুয়া লিংক, প্রতারণামূলক ফোনকল বা মিথ্যা মেসেজে ক্লিক করে প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। অথচ এসব পরিস্থিতিতে এখনো মানুষের প্রধান ভরসা ফেসবুক পোস্ট বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হারানো জিনিস আর ফিরে আসে না, আর দেরিতে তথ্য ছড়ানোর কারণে আরও অনেকে প্রতারণার শিকার হন।

এই বাস্তব সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজতেই যাত্রা শুরু করেছে ‘অ্যাওয়ার এক্সওয়ান (Aware X One)’- একটি কমিউনিটি-চালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি করা এবং অনলাইন প্রতারণা ঘটার আগেই মানুষকে সতর্ক করা।

অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর অন্যতম উদ্যোক্তা শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মো. শাহরিয়ার শাহনাজ শোভন, যিনি অনলাইনে ‘shuvonsec’ নামে পরিচিত। তিনি নাসা, সনি, মেটা, অ্যামাজন ও গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়া-তে তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা অধ্যয়নরত।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শোভন বলেন, ‘একদিন আমার নিজের পাওয়ার ব্যাংক হারিয়ে যায়। তখন বুঝতে পারি- জিনিস হারালে মানুষের কার্যকর কোনো নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নেই। সবাই ফেসবুকে পোস্ট দেয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময় কিছুই ফিরে আসে না। তখনই মনে হলো, সমস্যাটা ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার। সেখান থেকেই অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর ভাবনা।’

এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শোভনের সঙ্গে যুক্ত হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উকাই কিং মারমা জয় (Ukay Khing Marma Joy)। তিনি একজন অভিজ্ঞ সিস্টেমস ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এমবেডেড সিস্টেম, অটোমোটিভ-গ্রেড লিনাক্স অ্যাপ্লিকেশন, ফুল-স্ট্যাক প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রযুক্তি তৈরিতে রয়েছে তাঁর দক্ষতা।

জয়ের নেতৃত্বেই অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর এমন একটি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যা বড় পরিসরে ব্যবহার হলেও স্থিতিশীল থাকবে, তথ্য সুরক্ষিত রাখবে এবং ব্যবহারকারীর জন্য সহজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। এই দুই উদ্যোক্তার সমন্বয়ে প্ল্যাটফর্মটি সাইবার নিরাপত্তা চিন্তা ও বাস্তবমুখী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এ হারানো বা পাওয়া জিনিস এবং অনলাইন প্রতারণা- উভয় ধরনের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ ও প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে চালু করা হয়েছে ভেরিফায়েড আইডেন্টিটি সিস্টেম, যাতে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা থাকে। ফলে ভুয়া দাবি বা ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমে আসে।

এছাড়া রয়েছে ট্রাস্ট স্কোরিং সিস্টেম। ব্যবহারকারীর পূর্ববর্তী কার্যক্রম ও অবদানের ভিত্তিতে তার নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। নিয়মিত সঠিক স্ক্যাম রিপোর্ট বা হারানো জিনিস ফেরত দিতে সহায়তা করলে ট্রাস্ট স্কোর বাড়ে, যা পুরো কমিউনিটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

প্ল্যাটফর্মটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো রিয়েল-টাইম লোকেশনভিত্তিক অ্যালার্ট। কোনো এলাকায় হারানো জিনিস বা স্ক্যামের ঘটনা রিপোর্ট হলেই আশপাশের ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পান। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে এই আগাম সতর্কতা অন্যদের একই ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অ্যাওয়ার এক্সওয়ান কেবল একটি প্রযুক্তি উদ্যোগ নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে কমিউনিটির সদস্যরাই একে অপরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। হারানো জিনিস ফেরত পাওয়া যেমন স্বস্তির, তেমনি অপরিচিত কাউকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করাও একটি সামাজিক দায়িত্ব- এই ধারণাই অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর মূল শক্তি।

ইতোমধ্যে অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে কেন্দ্র করে প্ল্যাটফর্মটি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হারানো জিনিস উদ্ধার এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে অ্যাওয়ার এক্সওয়ান একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেফটি নেটওয়ার্কে পরিণত হবে।