ছবি: সাজু মারছিয়াং
প্রকৃতির অপরূপ শোভা আর পাহাড়ি পথের দুর্গমতাকে সঙ্গী করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে রাজকান্দি হিল ম্যারাথন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের যোগীবিল এলাকায় আয়োজিত ২৫ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ম্যারাথন ইভেন্ট দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চার শতাধিক দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা করেন ঢাকা সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রেইস ডিরেক্টর মো. জাকির হোসাইন, ইভেন্ট ম্যানেজার সুলেমান হাসান,মিডিয়া ম্যানাজার আসিফ ইবনে জামান, কমলগঞ্জ রানার্স এডমিন এবাদুর রহমান সহ আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, ‘দুর্গম পাহাড়ি পথ,চা-বাগান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ট্রেইলে দৌড়বিদদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ম্যারাথন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল না, এটি ছিল প্রকৃতিপ্রেমী এবং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের এক মিলনমেলা।’
দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুভ আফ্রিদী বলেন, ‘আমি আগেও বেশ কয়েকবার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছি, তবে পাহাড়ে এই প্রথম। উঁচু-নিচু রাস্তা আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত দৌড়ানো করা উচিত। এক কথায়, দৌড়ের উপর কোনো ঔষধ নেই।’
রেস ডিরেক্টর মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘প্রতি বছর নতুন কোনো চ্যালেঞ্জিং রুটে দৌড় আয়োজনের ইচ্ছা থাকে আমাদের ক্লাবের। আল্ট্রা ম্যারাথন যারা পছন্দ করেন; তারা সারাবছরই এই ইভেন্টকে মাথায় রেখে নিজেদের প্রস্তুত করেন। পাহাড়ি পথে নিজেদের সামর্থ্যকে পরখ করে দেখার এই সুযোগ যারা নিয়েছেন; তাদের ধন্যবাদ। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা নিয়মিত এমন আয়োজন করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, ‘দেশজুড়ে নানান দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতাগুলো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের জন্য নীরব এক বিপ্লবের সূচনা করেছে। কমলগঞ্জের মতো পাহাড়ের একটা উপজেলায় এত দৌড়বিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে অভূতপূর্ব। দৌড় হোক সব বয়সী মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্যের একটি সুদৃঢ় মাধ্যম।’
প্রতিযোগিতার শেষে, পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ ও আকর্ষণীয় ক্রেস্ট।
