https://www.emjanews.com/

13878

sylhet

প্রকাশিত

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩:১৫

সিলেট

প্রথম ভোটেই বাজিমাত: কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী আরিফ

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩:১৫

সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই জয় পেয়েছেন সিলেটের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ আরিফুল হক চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১ ভোট।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং রাত ১০টার দিকে ১৭২টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষ হয়।

উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জে ধানের শীষ প্রতীকে ৪৬ হাজার ৬৬৬ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২০ হাজার ৮৯ ভোট পড়েছে। গোয়াইনঘাটে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৭ হাজার ৪৮৪ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা ২৭ হাজার ৮৯৯ ভোট। জৈন্তাপুরে ধানের শীষ ৪৪ হাজার ১৯৬ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা ২১ হাজার ৯৮৭ ভোট পায়। জাতীয় সংসদের এ আসনটি ২৩২ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। ২০০৩ সালে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগর নেতৃত্বে আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।

১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটের কুমারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মো. শফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা খাতুন। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিলেট নগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে খনিজসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাময় সিলেট-৪ আসনে পাথর কোয়ারি চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং এখন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া, এই ধারাবাহিক উত্থান সিলেটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।