সিলেট টু ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট: সিন্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে ব্রিটেনে সভা
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:২৭
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র নিউপোর্ট শাখার উদ্যোগে এক সভা ও ডিনার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় শহরের তারানা রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নিউপোর্ট শাখার কনভেনর সাবেক ছাত্রনেতা ফয়ছল রহমান। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব এনামুল হোসেন সুয়েব ও কমিউনিটি সংগঠক শাহ শাফি কাদির।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে-এর কেন্দ্রীয় কনভেনর, কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ, সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ, আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, রকিবুর রহমান, সিরাজ খান, আব্দুর রউফ তালুকদার, সৈয়দ কাহের, ফখরুল ইসলাম, জহির আলী, আনহার মিয়া, রুহুল আমিন, সিতাব আলী, রহিম বাবুল, শাহ আব্দুল ওয়াহাব জাহাঙ্গীর, শাহজাহান তালুকদার শাওন, ফরিদ আলম সিপার, আব্দুর রহমান, বদরুল হক মনসুর, সাইদুল ইসলাম, হুমায়ুন আহমেদ, রবিউল ইসলাম, জুনেদ আহমেদ, সাজেল আহমেদ, আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, সাহেল আহমেদ, সাব্বির সাদেক ও আবুল হোসেনসহ আরও অনেকে।
সভা শুরুর আগে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শাহীন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।’ তিনি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথি শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ বলেন, ‘১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী বিমানবন্দর ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো কার্যকর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সিলেট অঞ্চলের লাখো প্রবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর যুক্তরাজ্য-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বারবার ফ্লাইট বন্ধ ও চালুর কারণে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও ওসমানীতে মূলত বাংলাদেশ বিমানের সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।’ এতে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়ছল রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের মোট যাত্রীর বড় একটি অংশ সিলেট অঞ্চলের হলেও সিলেট রুটে টিকিটের ভাড়া তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করা হয়। একই আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা ও সিলেটগামী যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে, যা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় নিয়মিত যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরা দেশে আসার আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।’
সংগঠনের নেতারা জানান, ইতোমধ্যে ওসমানী বিমানবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, আন্তর্জাতিক মানের ফুয়েলিং সিস্টেম ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ওপেন স্কাই লাইসেন্স’ এখনো ইস্যু না হওয়াই প্রধান বাধা। এই লাইসেন্স প্রদান করা হলে বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনায় আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশ ও বিদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
