নতুন মন্ত্রিপরিষদে প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত, বাদ পড়লেন হেভিওয়েটরা
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে। এই মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়া একাধিক নেতা স্থান পেলেও, বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেলেও ঘোষিত তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম না থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যেসব জ্যেষ্ঠ নেতা নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, তাদের মধ্যে রয়েছেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু-ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শামসুজ্জামান দুদু, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ছাড়া তালিকাভুক্ত অন্য নেতারা অতীতে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় তুলনামূলক নতুন ও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দলীয় নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। একই সঙ্গে এতে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার এই গঠন বিএনপির রাজনৈতিক পথচলায় কী প্রভাব ফেলবে এবং বাদ পড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভূমিকা আগামী দিনে কীভাবে নির্ধারিত হবে- সে দিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
