শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি নিষিদ্ধ
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন নীতিমালা
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:০৫
ছবি: সংগৃহীত
সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা জারি করে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত টিউশন ফি গ্রহণ করা যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা যাবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালিত হবে এবং তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর।
পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন।
আয় ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব ধরনের ফি, দান-অনুদান এবং সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব অথবা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) কিংবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
তবে জরুরি প্রয়োজন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সে ক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করতে হলে তাদের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হবে।
নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
