ছবি: সংগৃহীত
মলাইকা অরোরার ফিটনেস নিয়ে চর্চা নতুন নয়। বয়স বাড়লেও তাঁর ছিপছিপে শরীর ও ফিটনেস দেখে অনুপ্রাণিত হন অনেকেই। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি যোগাসনও তাঁর ফিট থাকার অন্যতম উপায়। নিজেকে আরও ফিট রাখতে এবার তিনটি যোগাসনের পদ্ধতি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।
অনেকেই পেটের মেদ কমাতে কঠোর ডায়েট বা দীর্ঘ সময়ের ব্যায়ামের আশ্রয় নেন। তবে শরীরচর্চার পাশাপাশি সুষম খাবার ও নিয়মিত জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। মলাইকা মনে করেন, বয়স ৪০ পেরোলেও নিয়মিত যোগাসন শরীরকে সচল ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত শরীরচর্চার বিভিন্ন কৌশল শেয়ার করেন মলাইকা। এবার তিনি দেখিয়েছেন এমন তিনটি যোগাসন, যা শরীরের নিম্নাংশের পেশি সক্রিয় রাখার পাশাপাশি কোমর ও নিতম্বের জড়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কপোতাসন
প্রথমে ম্যাটের ওপর হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে বসুন। ডান হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ হাতের পাশ দিয়ে সামনে প্রসারিত করুন। বাঁ পা পিছনের দিকে সোজা করে দিন। দুই হাতের তালু মাটিতে থাকবে। ঘাড়, পিঠ ও কোমর যতটা সম্ভব সোজা রাখুন।
এই অবস্থানে প্রায় ১০ সেকেন্ড থাকুন। এরপর বাঁ হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা কোমরের দিকে আনার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে দুই হাত মাটি থেকে তুলে মাথার পেছনের দিকে নিন। অনুশীলনের সময় শরীরের ভারসাম্য ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বজায় রাখা জরুরি।
শলভাসন
উপুড় হয়ে ম্যাটের ওপর শুয়ে পড়ুন। দুই পা পাশাপাশি রেখে সোজা রাখুন এবং দুই হাত ঊরুর নিচে রাখুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে বাঁ পা ওপরের দিকে তুলুন। খেয়াল রাখুন, হাঁটু যেন ভাঁজ না হয় এবং অন্য পা মাটিতে সোজা থাকে।
প্রায় পাঁচ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকার পর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা নামিয়ে আনুন। একইভাবে অন্য পা দিয়েও অনুশীলন করুন। এরপর দুই পা একসঙ্গে ওপরের দিকে তুলে পাঁচ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই আসনটি শরীরের নিম্নাংশের পেশিকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সিটেড হিপ রোটেশন
ম্যাটের ওপর পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে নিন এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। এরপর নিতম্বের ওপর ভর রেখে পা ও কোমর ধীরে ধীরে বৃত্তাকারে ঘোরান। পুরো অনুশীলনের সময় মেরুদণ্ড যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন।
এই ব্যায়াম নিতম্ব ও কোমরের নড়াচড়া বাড়াতে এবং শরীরের নিম্নাংশের পেশি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তবে শুধু নির্দিষ্ট কোনো একটি ব্যায়াম করলেই শরীরের নির্দিষ্ট অংশের মেদ কমবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো কঠিন যোগাসন শুরু করার আগে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করাও জরুরি।
