এনফিল্ডে ফুটবলের ছন্দে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মিলনমেলা
চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম, রানার্স-আপ হবিগঞ্জ-সিলেট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
দূর প্রবাসে থেকেও শেকড়ের টান যেন বারবার ফিরিয়ে আনে আপন ঠিকানায়। কখনো ফুটবলের মাঠে, কখনো খাবারের ঘ্রাণে, আবার কখনো পরিচিত মুখের হাসিতে খুঁজে পাওয়া যায় বাংলাদেশের চেনা আবহ। এমনই এক মিলনমেলার আবহ তৈরি হয়েছিল যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডে। ফুটবলের উচ্ছ্বাস আর পারিবারিক আনন্দে জমে উঠেছিল তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ও এনফিল্ড কমিউনিটি ডে ২০২৬।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ল্যাটিমার স্কুল স্পোর্টস গ্রাউন্ডস-এ আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে উত্তর লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবার, তরুণ-তরুণী, শিশু ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।

এনফিল্ড স্পোর্টিং কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট। আঞ্চলিক ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচেই ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে চট্টগ্রাম দল চ্যাম্পিয়ন এবং হবিগঞ্জ-সিলেট দল রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মাঠজুড়ে খেলোয়াড়দের দৌড়, গোলের উল্লাস আর দর্শকদের করতালিতে যেন এক মুহূর্তের জন্য প্রবাসের মাটিতে জেগে উঠেছিল বাংলাদেশের কোনো এক চেনা ফুটবল মাঠ। তরুণদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস পুরো আয়োজনকে পরিণত করে এক টুকরো উৎসবে।
তবে দিনটি শুধু ফুটবলের ছিল না। ছিল প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের দেখা হওয়ার দিন, পরিচিত-অপরিচিত মুখের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু গড়ার দিন। স্থানীয় কাউন্সিলর, ক্যাবিনেট মেম্বার, কমিউনিটি লিডার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পায় আরও ব্যাপকতা।
বক্তারা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

শিশুদের জন্য ছিল বাউন্সি ক্যাসেল ও নানা ধরনের প্লে অ্যাক্টিভিটি। পাশাপাশি ফুড স্টল, আইসক্রিম ও বিভিন্ন ট্রিটসের আয়োজন ছিল। খোলা মাঠে কেউ খেলায় মগ্ন, কেউ পরিবার নিয়ে পিকনিকে, আবার কেউ বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে গল্পে; সব মিলিয়ে ল্যাটিমার স্কুলের মাঠটি হয়ে উঠেছিল প্রাণের এক মিলনক্ষেত্র।
আয়োজকরা পরিবারবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কিং, খাবার ও বিনোদনের বিভিন্ন সুবিধা রাখেন। ফলে শিশু থেকে প্রবীণ; সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে দিনটি রূপ নেয় এক আনন্দমুখর কমিউনিটি উৎসবে।
অংশগ্রহণকারী পরিবার ও দর্শনার্থীদের ভাষায়, এটি কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কমিউনিটির মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি সুন্দর আয়োজন। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া এই বন্ধনই ভবিষ্যতে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন তারা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের মাঠে যেমন নতুন প্রতিভার জন্ম হবে, তেমনি এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে আরও গভীর হবে বাংলাদেশ, সংস্কৃতি ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা।
