বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও, ‘সম্মান রক্ষায়’ তরুণীকে হত্যার অভিযোগ বাবা-ভাইয়ের বিরুদ্ধে
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:২৩
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে পুরুষবন্ধুর সঙ্গে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পরিবারের ‘সম্মান রক্ষার’ কথা বলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পুলিশের।
নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুখ। তিনি বোপাল এলাকার একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্তরা হলেন তাঁর বাবা মোহাম্মদ ফারুখ নবাবখান ও ভাই হাবিল ফারুখ।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে এক তরুণের সঙ্গে সোফিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। পুলিশের ধারণা, ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই সোফিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন তাঁর বাবা ও ভাই।
পুলিশের দাবি, গত ১২ আগস্ট রাতে হাবিল বাইকে করে সোফিয়াকে সারখেজের গেলজিপুরা এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। তাঁর পকেটে আগে থেকেই একটি লোহার হাতুড়ি ছিল বলে অভিযোগ। সেখানে বাবা ও ছেলে মিলে সোফিয়ার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে তিনবার আঘাত করেন।
এরপর হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সোফিয়া ও তাঁর বাইককে একটি জনবহুল সড়কে নিয়ে গিয়ে একটি অজ্ঞাত গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগও করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সোফিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে তদন্তে নেমে দুর্ঘটনার বর্ণনা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। ঘটনাস্থলে দুর্ঘটনার তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজেও ওই সময় সেখানে অন্য কোনো গাড়ির উপস্থিতি দেখা যায়নি।
পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সোফিয়াকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, সেখানেই বাবা ও ভাই মিলে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে হত্যাকাণ্ডটি দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।
তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের ‘সম্মান রক্ষার’ নামে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ফারুখ ও হাবিলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
