সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯ জনে। আর সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট মৃত্যু ১৭৯ জনে পৌঁছেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে নতুন করে ১৬৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগজুড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৬৩ জন সন্দেহজনক রোগী।
নতুন শনাক্ত ১৬ জনসহ চলতি বছরের শুরু থেকে সিলেট জেলায় নিশ্চিত রোগী ৩৯৬ জন। এ ছাড়া হবিগঞ্জে ১৫৮, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের এ সংখ্যার মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত দুজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বয়স ছিল আট মাস এবং বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়।
মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত বিভাগে ১৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৬৮, হবিগঞ্জে ২২, মৌলভীবাজারে ১৪ এবং সুনামগঞ্জে ৬৫ জন।
অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, হবিগঞ্জে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিত রোগে মোট মৃত্যু ১০ জন।
সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে সিলেটে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে। হবিগঞ্জে ২৬, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৬ জন। সব মিলিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যু ১৭৯ জন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬০ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন।
এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে ভর্তি ৫৬৩ রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৭ জন এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে তিনজন এবং পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি আছেন।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়েও রোগীর চাপ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে পাঁচজন, বিশ্বনাথে তিনজন, বিয়ানীবাজারে ছয়জন, গোলাপগঞ্জে ১১ জন এবং ফেঞ্চুগঞ্জে দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৫২ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী ভর্তি আছেন। হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
