শিরোনাম
সহকারী অধ্যাপক পদে ২৮ চিকিৎসকের পদোন্নতি: সিলেটের দুজন যাদুকাটার দুই মহালে বালু উত্তোলন স্থগিত, হাইকোর্টের রুল সিলেট-ঢাকা যাত্রায় কমবে ৪০ কিলোমিটার পথ, সরাইল-নাসিরনগর সড়কের কাজ শুরু সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে ৭১ লাখ টাকার চালান ধরলেও আ/ট/ক হয়নি কেউ ‌'অনুকূল পরিবেশ' হলে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির হঠাৎ সিলেটসহ বিভিন্ন উপজেলার ৬৮ এসিল্যান্ডকে একযোগে প্রত্যাহার সবাই খুঁজছিল তায়িফাকে, ফুফুর ঘরের বাক্সে মিলল তার নিথর দেহ দেশজুড়ে ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ দফায় দফায় বৈঠকেও কাটেনি অচলাবস্থা, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষকদের মুক্তি দিলেন না আন্দোলনকারীরা

https://www.emjanews.com/

19174

national

প্রকাশিত

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৫

জাতীয়

সিলেট-ঢাকা যাত্রায় কমবে ৪০ কিলোমিটার পথ, সরাইল-নাসিরনগর সড়কের কাজ শুরু

১৮ ফুটের সড়ক হবে ৩৪ ফুট, ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৫

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবার প্রশস্ত করা হচ্ছে। ৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ১৮ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

গেলো রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাসিরনগর কলেজ মোড়ে সড়কটির প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান কাজটির উদ্বোধন করেন।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরাইল থেকে নাসিরনগর উপজেলার শেষ সীমানা হয়ে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বলভদ্র সেতু পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ মাত্র ১৮ ফুট।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কটি সরু হওয়ায় পাশাপাশি দুটি ভারী যান চলাচলের সময় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যমান ১৮ ফুট সড়কটি ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কটির প্রয়োজনীয় পুনর্নির্মাণের কাজও করা হবে।

উদ্বোধনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, ‘এই সড়কটি নাসিরনগরের মানুষের স্বপ্নের সড়ক।’

তিনি বলেন, সড়কটি নির্মাণের বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ডিও লেটার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করেছেন।

এম এ হান্নান বলেন, সড়কটি নির্মাণ হলে নাসিরনগরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, সরাইল-নাসিরনগর সড়কটি নির্মিত হলে ভাটি অঞ্চলখ্যাত নাসিরনগরের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

তার ভাষ্য, সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে শুধু যাতায়াত নয়, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়বে। এর মাধ্যমে নাসিরনগর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সরাইল-নাসিরনগর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কুমিল্লা) মোফাজ্জল হায়দার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরাইল থেকে নাসিরনগর হয়ে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে। কাজ শেষ হলে এটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে আরও কার্যকর হবে।

২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেকে ঢাকঢোল নিয়ে অংশ নেন।

পরে নাসিরনগর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস আলী, নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন শাহীনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম।