বন্ধ হওয়ার পথে হরমুজ প্রণালী, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের শ ঙ্কা
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৪১
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৫৩ শিশুসহ মোট ৫৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বাহিনী ইসরাইলি ভূখণ্ড এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী-তে।
ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালায়। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল।
ইতোমধ্যে প্রায় সব বড় তেল ও বাণিজ্যিক কোম্পানি তাদের জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে। এক শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন বর্তমান অবস্থানেই স্থির থাকবে।’
আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের স্থবিরতা বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পথে বিশ্বের ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশের বেশি পরিবহন হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের প্রধান পথ এটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ ও আমেরিকায় মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দেবে, যা পশ্চিমা দেশগুলো কোনোভাবেই ঝুঁকি হিসেবে নিতে চাইবে না।
ইতোমধ্যে হামলার আশঙ্কায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ৬৭ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমনকি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
