পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছায়নি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩১
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।
বিষয়টি বার্তা সংস্থা এএনআইকে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ফলে ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালানও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তবে পাকিস্তান কী কারণে ওই কার্গো বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানোর জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ইউরেনিয়াম জ্বালানি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কাছ থেকে জানানো হয়, কার্গো বিমানটির প্রয়োজনীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এ কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। দুই ইউনিটে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে প্রথম চালান ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আসে। বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ওই জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম চালানও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।
