তরুণ সাংবাদিক তুহিনকে ঘিরে শোক: স্ত্রীর আবেদনে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৯
তুহিনুল হক তুহিন।
অবেলায় চলে গেলেন ভালোবাসার মানুষটি। হৃদরোগ আর কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন অনেক দিন ধরেই। বয়সও তো তেমন কিছু নয়; মাত্র ৩৭। জীবনের অনেক পথ চলা বাকি ছিল সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও বাংলা ট্রিবিউনের বিভাগীয় প্রতিনিধি তুহিনুল হক তুহিনের। কিন্তু মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের আলো ফোটার আগেই, ভোর চারটার দিকে নগরীর সাদারপাড়ার বাসায় নিভে গেল এই উদ্যমী সংবাদকর্মীর জীবনের প্রদীপ।
পেছনে রয়ে গেলেন তার স্ত্রী ডা. নাজমিন বেগম, ছয় বছর বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তান, স্বজন আর অজস্র শুভানুধ্যায়ী। স্বজনদের এই বিচ্ছেদবেদনার মাঝেও জমাট বেঁধেছে এক অদ্ভুত কুয়াশা ও আক্ষেপের মেঘ।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন স্ত্রী নাজমিন। কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে শেষবারের মতো একটু দেখতে পাওয়ার পথটুকুও মসৃণ ছিল না তার জন্য; অভিযোগ উঠেছে তাকে মরদেহ দেখতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক নানা টানাপোড়েনে তিনি শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকলেও অসুস্থ স্বামীর প্রতি তার আকুলতার কমতি ছিল না। স্বামীকে নিজের কাছে এনে আরও একটু সুচিকিৎসার জন্য বারবার দরজায় কড়া নেড়েও ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে।
তুহিনের এই অকাল প্রস্থান কি কেবলই রোগের কাছে হার মানা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো চিকিৎসার অবহেলা? সেই কষ্ট আর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজ অশ্রুসজল চোখে নাজমিন বেগম শরণাপন্ন হয়েছেন প্রশাসনের। স্ত্রীর করা আকুল আবেদনের ভিত্তিতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের সব প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে। এশার নামাজের পর শেষ বিদায়ের আয়োজনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
তুহিন কেবল সাংবাদিকতার প্রাঙ্গণেই অনুরাগী বানাননি, নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজমিন প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে এমবিবিএস পাশ করে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে মানবতার সেবায় নিয়োজিত আছেন। এক ছাদের নিচে হয়তো অনেক অভিমান জমা হয়েছিল, কিন্তু মৃত্যুর সমনে এসে সব অভিমান আজ জমাটবদ্ধ এক হাহাকারে রূপ নিয়েছে।
তুহিনের এই অবেলার বিদায়ে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তুহিন ছিলেন এক দারুণ প্রতিভাবান তরুণ সাংবাদিক। এত অল্প বয়সে তার এমন চলে যাওয়া পুরো সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
