ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কাইতকোনায় হাজং সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী দেউলি পৌষ উৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’-এই স্লোগানে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় সম্প্রীতির এই উৎসব।
উৎসবটির আয়োজন করে বিশ্বম্ভরপুর ইয়ুথ পিচ অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজং সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশই এই দেউলি পৌষ উৎসবের মূল লক্ষ্য।
উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ সংগীতশিল্পী চন্দনা হাজং।
বিশ্বম্ভরপুর ইয়ুথ পিচ অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সমন্বয়কারী কুহিনুর বেগমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক সামছুল কবিরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্বম্ভরপুর পিচ ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের পিচ অ্যাম্বাসেডর সিরাজ খন্দকার, সমন্বয়কারী ফুলমালা বেগম, সুনামগঞ্জ সদর পিচ অ্যাম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম, সদস্য নুরুল হাসান, মসিউর রহমান ও কর্ণ বাবু দাস।
স্বাগত বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি কুদরত পাশা।
বক্তারা বলেন, হাজং সম্প্রদায় একটি ঐতিহ্যপ্রিয় ও সংস্কৃতিমনা জনগোষ্ঠী হলেও আধুনিকতার চাপে তাদের অনেক কৃষিভিত্তিক ও ধর্মীয় উৎসব আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। দেউলি পৌষ উৎসব হাজং জনগোষ্ঠীর অন্যতম বর্ণিল ও জীবনঘনিষ্ঠ উৎসব হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি নিয়মিতভাবে উদ্যাপিত হয়নি। এবার এই উৎসব আয়োজন হওয়ায় হাজংপল্লিতে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে।
কুদরত পাশা বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে হাজং জনগোষ্ঠী যেন নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির প্রতি আরও সচেতন ও গর্বিত হয়- সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেউলির মতো প্রাচীন লোকজ উৎসবের পুনরুজ্জীবন হাজং সংস্কৃতিকে নতুনভাবে শক্তিশালী করবে।
আলোচনা সভা শেষে হাজং সম্প্রদায়ের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজং নারী ও শিশুরা দলবদ্ধভাবে গাঁও, সন্ধানী, লিওয়াটানা ও আহিসে বৈশাখী নৃত্য পরিবেশন করেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত হাজং শিল্পীরা নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরেন।
উৎসবের সমাপ্তি ঘটে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে।
