শিরোনাম
সিসিক মেয়রের দৌড়ে প্রশাসক, বললেন এটা ‘ড্রেস রিহার্সাল’ ওসমানী বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট বাতিল ইরানে শোকের ছায়া: বিদায় নিলেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী ইমজার নতুন কমিটি: সভাপতি রিপন, সম্পাদক আনিস মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত, জরুরি নির্দেশনা জারি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন: আলোচনায় সিলেটের তিনজন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-কে সংবর্ধনা সরকারি কর্মকর্তারা ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সহযোগিতা করেছেন: কাইয়ুম চৌধুরী হাসিমুখে ঈদ করতে পারবেন শিল্প কারখানার শ্রমিকরা : বাণিজ্যমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

12933

opinion

প্রকাশিত

১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪৪

আপডেট

১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫৫

মতামত

বাঁশের গাঁথুনিতে জীবনের গল্প

এখনও বাঁশের গোলা তৈরি করেন শ্রীমঙ্গলের মিঠুন রাজবল্লভ

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪৪

ছবিটি শ্রীমঙ্গল থেকে তোলা, অনিল কুমার পাল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান সংরক্ষণের ডোল বা গোলা আজও টিকে আছে কিছু দক্ষ কারিগরের হাতে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুটিয়াছড়া এলাকায় এমনই একজন কারিগর মিঠুন রাজ বল্লভ। বাঁশের বেত দিয়ে ধান সংরক্ষণের ডোল তৈরি করে তিনি যেমন নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন, তেমনি ধরে রেখেছেন একটি হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ শিল্প।

 

মিঠুন রাজবল্লভ প্রতি বাঁশ তিন শত টাকা দরে বেতুয়া বাঁশ কিনে আনেন তার বাড়ি থেকে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে। সেই বাঁশ কেটে বেত ছাড়িয়ে শুরু হয় ডুলি তৈরির মূল কাজ। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে তিন থেকে চার দিন।

ধান সংরক্ষণে কার্যকর ডোল
মিঠুনের তৈরি একটি ডোল বা গোলা ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ধান সংরক্ষণ করা যায়। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন মাপের ডোল তৈরি করেন।
১৫ মণ ধারণক্ষম ডোল বিক্রি হয় প্রায় ২০০০ টাকায়। আর ২০ মণ ধারণক্ষম ডোলার দাম পড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের কাছে এসব ডোলের চাহিদা এখনো রয়েছে। প্লাস্টিক ও টিনের আধুনিক সংরক্ষণ পাত্রের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় বাঁশের ডোল পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বলেই মনে করেন অনেক কৃষক।

 

শ্রম বেশি, লাভ কম
মিঠুন রাজ বল্লভ জানান, বাঁশের দাম, পরিবহন খরচ এবং দীর্ঘ সময়ের শ্রম—সব মিলিয়ে এই পেশায় লাভ খুব বেশি নয়। তবুও পারিবারিক ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য
আধুনিকতার প্রভাবে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ডোল বা গোলা তৈরির মতো গ্রামীণ শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও নতুনভাবে টিকে থাকতে পারে।

 

মিঠুন রাজ বল্লভের হাতে তৈরি ডোল শুধু ধান সংরক্ষণের একটি উপকরণ নয়—এটি গ্রামবাংলার পরিশ্রম, ঐতিহ্য আর আত্মনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।