শিরোনাম
নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্যান্য সব নির্বাচন স্থগিত পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিবেন সিলেটের কারাবন্দিরা সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল স্থগিত ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পক্ষে গণজোয়ার, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান হিমাগার নেই, কৃষকের স্বপ্ন পচে যায় মাঠেই, সবজি বিক্রি হয় পানির দরে পোস্টাল ভোটে প্রতীক বিভ্রান্তি: ব্যালট নিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের আপত্তি সিলেট থেকে উড়ে শিলচরে: বেলুন-কাণ্ডে চাঞ্চল্য বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মেলেনি, ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে যুক্তরাজ্যের সড়কে প্রাণ গেল সিলেটি বংশোদ্ভূত চারজনের

https://www.emjanews.com/

12933

opinion

প্রকাশিত

১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪৪

আপডেট

১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫৫

মতামত

বাঁশের গাঁথুনিতে জীবনের গল্প

এখনও বাঁশের গোলা তৈরি করেন শ্রীমঙ্গলের মিঠুন রাজবল্লভ

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৪৪

ছবিটি শ্রীমঙ্গল থেকে তোলা, অনিল কুমার পাল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান সংরক্ষণের ডোল বা গোলা আজও টিকে আছে কিছু দক্ষ কারিগরের হাতে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুটিয়াছড়া এলাকায় এমনই একজন কারিগর মিঠুন রাজ বল্লভ। বাঁশের বেত দিয়ে ধান সংরক্ষণের ডোল তৈরি করে তিনি যেমন নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন, তেমনি ধরে রেখেছেন একটি হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ শিল্প।

 

মিঠুন রাজবল্লভ প্রতি বাঁশ তিন শত টাকা দরে বেতুয়া বাঁশ কিনে আনেন তার বাড়ি থেকে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে। সেই বাঁশ কেটে বেত ছাড়িয়ে শুরু হয় ডুলি তৈরির মূল কাজ। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে তিন থেকে চার দিন।

ধান সংরক্ষণে কার্যকর ডোল
মিঠুনের তৈরি একটি ডোল বা গোলা ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ধান সংরক্ষণ করা যায়। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন মাপের ডোল তৈরি করেন।
১৫ মণ ধারণক্ষম ডোল বিক্রি হয় প্রায় ২০০০ টাকায়। আর ২০ মণ ধারণক্ষম ডোলার দাম পড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের কাছে এসব ডোলের চাহিদা এখনো রয়েছে। প্লাস্টিক ও টিনের আধুনিক সংরক্ষণ পাত্রের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় বাঁশের ডোল পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বলেই মনে করেন অনেক কৃষক।

 

শ্রম বেশি, লাভ কম
মিঠুন রাজ বল্লভ জানান, বাঁশের দাম, পরিবহন খরচ এবং দীর্ঘ সময়ের শ্রম—সব মিলিয়ে এই পেশায় লাভ খুব বেশি নয়। তবুও পারিবারিক ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য
আধুনিকতার প্রভাবে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ডোল বা গোলা তৈরির মতো গ্রামীণ শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও নতুনভাবে টিকে থাকতে পারে।

 

মিঠুন রাজ বল্লভের হাতে তৈরি ডোল শুধু ধান সংরক্ষণের একটি উপকরণ নয়—এটি গ্রামবাংলার পরিশ্রম, ঐতিহ্য আর আত্মনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।