শিরোনাম
সিলেটে ভূমিকম্প: উৎপত্তি মায়ানমার গভর্নর অপসারণের খবরে ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার সিলেটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি গভীর ও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে: ব্রিটিশ হাইকমিশনার এমপি-মন্ত্রী হওয়া ক্ষমতার নয়, জনগণের প্রতি বড় দায়িত্ব: এমপি লুনা সরকারি মূল্য কমলেও সিলেটে কমেনি এলপি গ্যাসের দাম স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলে ‘মডেল আসন’ গড়ে তোলার প্রত্যয় এমপি এম এ মালিকের, চালু হচ্ছে ফেরি সার্ভিস প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন কাইয়ুম চৌধুরী: সিসিককে গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি এ বছরের ফিতরা সর্বোচ্চ ২৮০৫ ও সর্বনিম্ন ১১০ টাকা পিলখানায় শহীদদের কবরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

https://www.emjanews.com/

14018

international

প্রকাশিত

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:১২

আন্তর্জাতিক

ইরান ছাড়তে নাগরিকদের আহ্বান একাধিক দেশের

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:১২

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে একাধিক দেশ। এমন সতর্কবার্তা এমন সময়ে দেওয়া হলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক ও মধ্যস্থতাকারীরা শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

জেনেভায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তেহরান এবং ইরানের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম-যদিও এর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। তবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন।

ইরান বারবার জানিয়ে এসেছে, তারা শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে রাজি হবে না। পাশাপাশি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে তেহরান।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীগুলোর দুটি- ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড- মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।

যেসব দেশ নাগরিকদের ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে-

অস্ট্রেলিয়া:
অস্ট্রেলিয়া সরকার বুধবার তাদের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বিদ্যমান। একই সঙ্গে ইরানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবানন ও ইসরায়েলে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ভরশীলদের সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে এবং জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বেচ্ছা প্রস্থানের সুযোগ দিয়েছে।

জার্মানি:
জার্মান দূতাবাস জানায়, ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও উত্তেজনাপূর্ণ। যেকোনো সময় সামরিক সংঘর্ষ ঘটতে পারে এবং বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ, ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভারত:
নয়াদিল্লি শিক্ষার্থী, তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ সব ভারতীয় নাগরিককে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সম্ভব হলে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

পোল্যান্ড:
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইরানে অবস্থানরত পোলিশ নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানান এবং সেখানে নতুন করে ভ্রমণ না করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, সংঘাতের সম্ভাবনা খুবই বাস্তব।

সার্বিয়া:
সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের আপাতত ইরান ভ্রমণ না করার এবং সেখানে অবস্থানরতদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া:
দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস এক নিরাপত্তা বার্তায় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ত্যাগ করা উচিত। ভ্রমণ পরিকল্পনাও বাতিল বা স্থগিত করতে বলা হয়েছে।

সুইডেন:
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনেরগার্ড সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইরান ও আশপাশের অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই ইরানে সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার এবং অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র:
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।