২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পলাতক ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস ও জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তের অপেক্ষায় থাকা বিশাল এই তালিকায় রয়েছেন ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার বেশ কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, নূরে আলম মিনা, আনিসুর রহমান এবং সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রওশানুল হক সৈকত, শাহ নূর আলম পাটওয়ারী এবং ট্রাফিক বিভাগের মোঃ রাশেদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে এসব কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তারা বর্তমানে পলাতক। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনে নাম আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান, এস. এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রথম দফায় তিনজনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং বাকি ৫৪ জনও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দ্রুত বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন। এই পদক্ষেপ পুলিশের চেইন অব কমান্ড এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
